হ্যালো পাঠকবৃন্দ,
আশা করি সবাই ভালোই আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে বেশ ভালোই আছি। আমি শাহরিয়ার ইবনে আলম এবং আজকে আমি আপনাদের সাথে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি খবর শেয়ার করতে এসেছি, যা বাংলাদেশের ডিজিটাল জগতকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারে। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন—বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ‘.bd’ ডোমেইন এক্সটেনশন! এটা শুধু একটা টেকনিক্যাল আপডেট নয়, বরং আমাদের দেশের অনলাইন পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করার একটা বড় পদক্ষেপ। চলুন, আজকের এই পোস্টে আমরা এই খবরটাকে একটু গভীরভাবে খুঁটিয়ে দেখি, যাতে আপনারা সবাই এর পুরো গল্পটা জানতে পারেন।
কেন এটা এতো বড় খবর?
আমরা সবাই তো জানি, ইন্টারনেটের দুনিয়ায় একটা ওয়েবসাইটের ঠিকানা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে এত বছর ধরে আমরা মূলত বাংলাদেশের থার্ড লেভেল ডোমেইন .com.bd, .net.bd, .org.bd বা গ্লোবাল টপ লেভেল ডোমেইন .com, .net, .org এর মতো ডোমেইনগুলো ব্যবহার করে আসছি। কিন্তু এখন, আমাদের নিজস্ব কান্ট্রি-কোড টপ-লেভেল ডোমেইন (ccTLD) ‘.bd’ অবশেষ্টে চালু হয়েছে। এর মানে? এখন বাংলাদেশের যেকোনো ব্যবসা, সংস্থা বা ব্যক্তি তাদের ওয়েবসাইটকে ‘example.bd’ এর মতো করে লিখতে পারবে, যা সরাসরি আমাদের দেশের পরিচয় দেবে।
এটা শুধু গর্বের বিষয়ই নয়, বরং আমাদের ই-কমার্স, শিক্ষা এবং সার্ভিস সেক্টরকে বুস্ট দেবে। কল্পনা করুন, একটা লোকাল স্টার্টআপ যদি ‘mybusiness.bd’ নিয়ে চলে, তাহলে গ্রাহকরা সঙ্গে সঙ্গে বুঝে যাবে এটা বাংলাদেশের! এতে জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল সিকিউরিটি আরও মজবুত হয়ে উঠবে, কারণ লোকাল ডোমেইনগুলো আমাদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
কীভাবে কাজ করবে এই .bd ডোমেইন?
এখন আসল প্রশ্ন—এটা কীভাবে পাবেন? প্রক্রিয়াটা খুবই সহজ এবং সিকিউর, কিন্তু শুরুতে কিছু নিয়ম মানতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় একটা ‘সানরাইজ পিরিয়ড’ চলবে, যা তিন মাস ধরে থাকবে। এই সময়ে শুধুমাত্র যাদের আগে বিটিসিএল (BTCL) থেকে ডোমেইন নেওয়া আছে, তারাই প্রায়োরিটি পেয়ে ‘.bd’ রেজিস্টার করতে পারবেন। এরপর ধীরে ধীরে সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে—সরকারি, সেমি-গভর্নমেন্ট এবং প্রাইভেট সেক্টর সবাইকে নিয়ে। আপনাকে BTRC-র অফিসিয়াল রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। দরকারী ডকুমেন্টস হিসেবে আপনার সংস্থার ট্রেড লাইসেন্স বা NID (ব্যক্তিগতের জন্য) লাগবে।
আর মূল্যের কথা বললে, এটা ডোমেইনের লেন্থের উপর নির্ভর করে। যেমন:
- ২ অক্ষরের মধ্যে (যেমন: ab.bd) – রেজিস্ট্রেশন ফি ৫৫,০০০ টাকা এবং রিনিউ ৬৫,০০০ টাকা প্রতি বছর।
- ২ অক্ষরের বেশি (যেমন: abc.bd বা example.bd) – রেজিস্ট্রেশন ফি ২,০০০ টাকা এবং রিনিউ ২,৫০০ টাকা প্রতি বছর।
আমার মতে, এটা আমাদের ডিজিটাল ইকোনমির জন্য একটা মাইলফলক। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্রুততম গ্রোথিং ইকোনমিগুলোর একটা, আর এই .bd চালু হওয়ায় আমরা আরও ভালো করে গ্লোবাল মার্কেটে নিজেদের প্রমাণ করতে পারব। যেমন, আমাদের লোকাল ই-কমার্স সাইটগুলো যদি .bd নেয়, তাহলে বিদেশি ক্রেতারা সহজেই ট্রাস্ট করবে। এছাড়া, সাইবার সিকিউরিটির দিক থেকেও এটা অ্যাডভান্টেজ—কারণ কান্ট্রি-স্পেসিফিক ডোমেইনগুলোতে হ্যাকিং রিস্ক কম।
কী করবেন আপনারা এখন?
যদি আপনার কোনো ব্যবসা বা ব্লগ থাকে এবং আগে BTCL থেকে ডোমেইন নিয়ে থাকেন, তাহলে সানরাইজ পিরিয়ডে দেরি না করে আবেদন করুন। BTRC-র ওয়েবসাইটে (btrc.gov.bd) সব ডিটেইলস পাবেন। আর যদি শুধু একটা ইউজার হিসেবে থাকেন, তাহলে এই খবরটা শেয়ার করুন আপনার ফ্রেন্ডস সার্কেলে—কারণ এটা আমাদের সবার জয়।
তাহলে আর দেরী না করে, আপনার পছন্দের .bd ডোমেইনটি খুঁজে নিতে এই লিংকে ক্লিক করুণ: https://bdia.btcl.com.bd/
আজকের পোস্টটি এই পর্যন্তই। পোস্টটি নিয়ে আপনাদের মতামত জানাতে ভুলবেননা। পরবর্তীতে আবার নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে হাজির হবো। আল্লাহ হাফেজ।
এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার মতামত অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এছাড়াও তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করতে অথবা আপনার সমস্যার কথা জানাতে Ask করুণ টিপি সমাধান -এ। আপনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্নের উত্তর ও সমস্যার সমাধান দিতে টিপি সমাধান আছে আপনার পাশে।
বিঃদ্রঃ টেক প্রহরে প্রকাশিক সকল কনটেন্ট (যেমনঃ লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও, কোড, ফাইল ইত্যাদি) এবং যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায়ভার শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। আপনার যদি টেক প্রহরে প্রকাশিক কোনো কনটেন্ট এর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তাহলে কনটেন্ট রিপোর্ট অথবা অপসারণের অনুরোধ করতে পারেন, আমরা আপনার অভিযোগটি খতিয়ে দেখবো এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিবো।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.