কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উত্থানের কারণে বিশ্বব্যাপী মেমোরি চিপের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটের ফলে ২০২৬ সালে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং কম্পিউটারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি (IDC) এবং ট্রেন্ডফোর্সের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে, ডিআরএএম (DRAM) চিপের দাম ইতিমধ্যে ৭৫% পর্যন্ত বেড়েছে, এবং এই প্রবণতা চলতি বছরের শেষ থেকে আগামী বছরের শুরুতে আরও ২০-৩০% বাড়তে পারে।
এই সংকটের মূল কারণ হলো এআই ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি (HBM) চিপের অত্যধিক চাহিদা। স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স এবং মাইক্রনের মতো বড় মেমোরি উৎপাদকরা তাদের উৎপাদন ক্ষমতার বড় অংশ এআই-সম্পর্কিত উচ্চ-মার্জিন চিপের দিকে সরিয়ে নিয়েছে। ফলে সাধারণ স্মার্টফোন ও পিসিতে ব্যবহৃত LPDDR এবং DDR চিপের সরবরাহ কমে গেছে। আইডিসির বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে, যা স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য (ASP) ৩-৮% বাড়িয়ে দিতে পারে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের মতে, স্মার্টফোন উৎপাদন খরচ ইতিমধ্যে ৮-১০% বেড়েছে।
বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর বাজারে এর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ডলারের দাম বাড়া এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের অস্থিরতার কারণে স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের দাম ইতিমধ্যে কিছুটা বেড়েছে। আগামী বছর নতুন মডেলগুলোতে এই প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে। উদাহরণস্বরূপ, শাওমি এবং স্যামসাংয়ের আসন্ন ফ্লাগশিপ মডেলগুলোর দাম ১০% পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক খবর হলো, সংকট মোকাবিলায় কিছু নির্মাতা র্যামের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারেন। ট্রেন্ডফোর্সের রিপোর্ট অনুসারে, বাজেট এবং লো-এন্ড স্মার্টফোনে ৪ জিবি র্যামের মডেল ফিরে আসতে পারে, যা গত কয়েক বছরে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। মিড-রেঞ্জ ডিভাইসে ৬-৮ জিবি এবং ফ্লাগশিপে ১২ জিবি র্যামকে স্ট্যান্ডার্ড করে তোলা হতে পারে। ১৬ জিবি র্যামের ভ্যারিয়েন্টগুলো বিরল হয়ে যাবে। এমনকি আইফোন ১৭ প্রো বা গ্যালাক্সি এস২৬-এর মতো প্রিমিয়াম মডেলে র্যাম আপগ্রেড না হয়ে স্থির থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনগুলো ভোক্তাদের জন্য কষ্টদায়ক হবে। মাল্টিটাস্কিং এবং এআই ফিচারের জন্য আরও বেশি র্যামের চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু সরবরাহের অভাবে দাম বাড়া বা স্পেক কমানো ছাড়া উপায় নেই। ল্যাপটপ এবং পিসি বাজারেও একই চিত্র – ডেল, লেনোভো এবং এইচপির মতো কোম্পানি ইতিমধ্যে দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
যদিও এই সংকট দীর্ঘমেয়াদী নয় – নতুন ফ্যাবগুলো চালু হলে ২০২৭-২৮ সাল নাগাদ স্বাভাবিক হতে পারে – তবু আগামী বছর নতুন ডিভাইস কিনতে গেলে পকেটে একটু বেশি টাকা রাখতে হবে। যারা এখনই আপগ্রেড করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটাই সেরা সময় হতে পারে।
এই পরিস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রযুক্তির দুনিয়ায় কোনো কিছুই স্থির নয়। এআই-এর উত্থান যেমন নতুন সম্ভাবনা খুলে দিচ্ছে, তেমনি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। আপনার মতামত কী? কমেন্টে জানান!
এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার মতামত অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এছাড়াও তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করতে অথবা আপনার সমস্যার কথা জানাতে Ask করুণ টিপি সমাধান -এ। আপনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্নের উত্তর ও সমস্যার সমাধান দিতে টিপি সমাধান আছে আপনার পাশে।
বিঃদ্রঃ টেক প্রহরে প্রকাশিক সকল কনটেন্ট (যেমনঃ লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও, কোড, ফাইল ইত্যাদি) এবং যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায়ভার শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। আপনার যদি টেক প্রহরে প্রকাশিক কোনো কনটেন্ট এর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তাহলে কনটেন্ট রিপোর্ট অথবা অপসারণের অনুরোধ করতে পারেন, আমরা আপনার অভিযোগটি খতিয়ে দেখবো এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিবো।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.